একজন বিরিয়ানিওয়ালার অনলাইন ক্যারিয়ার

পরিবারের প্রয়োজনে মাত্র ৭ বছর বয়স থেকেই আমার আয় করা শুরু করতে হয়। যার কারণে আমার তেমন স্কুলে পড়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু আমি তা সবসময় চেতাম। যখন আমার বয়সীরা সবাই স্কুলে যেতো আমার তখন খুব মন খারাপ হতো। আমার কর্মজীবনের শুরুতে আমি খেলনা ও শপিং ব্যাগ বিক্রি করতাম পেশওয়ারে এবং পরবর্তীতে লাহোরে। এরপর ১২ বছর বয়সে করাচিতে এসে সবজি এবং ফল বিক্রি শুরু করি। তারপর বিরিয়ানি এর ব্যবসা শুরু করি তা চলে ৭ বছর ( ২০০১ – ২০০৮ )পর্যন্ত। কিন্তু তখনও আমি শিক্ষাগ্রহন করতে চেতাম। কিন্তু পারতাম না এবং সাহায্য করার মতো কাউকে পাইনি। যখন আমি বিরিয়ানি বিক্রি করতাম তখন আমি উর্দু পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করতাম এভাবেই আমি একসময় উর্দু ও পাস্তু ভাষা শিখি এবং তা লিখতে শিখি। ২০০৮ ছিলো আমার বিরিয়ানি ব্যবসার শেষ বছর। তখন আমার এক বন্ধু ছিলো আমার দোকানের পাশেই তার দোকান ছিলো। তাকে আমি প্রায়ই বলতাম আমি চাই অফিসে কাজ করি, ইংরেজীতে কথা বলি , বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াই। এই কথাগুলো শুনে সে হাসতো  এবং বলতো এটা কখনোই সম্ভব না তুমি অশিক্ষিত একজন বিরিয়ানি বিক্রেতা । কিন্তু আমি তারপরও ভালো কিছু করার জন্য চেষ্টা করতাম। জুলাই ২০০৮ এ আমি আমার এক বন্ধুর কাছ টাকা ধার করে মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান দেই। সেখান থেকে বিভিন্ন মানুষজনদের কাছ থেকে আমি টেকনোলজি সম্পর্কে জানি। এক পর্যায়ে আমি কম্পিউটার কিনে ফেলি এবং আসিফ ইকবাল নামে এক ভাই আমাকে প্রথম কম্পিউটার এর ব্যসিক শেখান। এভাবেই আমার কম্পিউটার এর হাতে খড়ি। এর কিছুদিনপর আমি ইংরেজি শিখতে এক ইন্সটিটিউটে ভর্তি হই । এভাবেই আমি শেখা শুরু করি কিন্তু এদিকে আমার মোবাইল সার্ভসিং এর ব্যবসা লস হলো। তাই বাড়ি চলে আসতে হলো। তখন আমার হাতে কোন টাকা পয়সা ছিলো না। মানুষের কাছ থেকে ধার করে চলতাম। এর মধ্যে আমাদের এলাকায় আমার এক বন্ধু মোবাইল সার্ভিসিং এর নতুন দোকান দেয় তাকে সাহায্য করতে  সেখানে বসতাম। মাঝে  মাঝে তার দোকানের কম্পিউটা ব্যবহার করতাম। একদিন সেই কম্পিউটার এ একটি ফোল্ডার দেখতে পাই যেটার নাম ছিলো “How to Make Money Online?” তখনই আমি প্রথম গুগুল এডসেন্স সম্পর্কে জানি। যেখানে  ৮-৯ পৃষ্ঠার মতো তা নিয়ে লেখা ছিলো। এর কিছুদিন পর শুক্রুবারের নামজের সময় আমার ক্রিকেট খেলার বন্ধুর সাথে দেখা হয়। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি বর্তমানে কি করছি? আমি বললাম কিছুই না তবে করতে চাচ্ছি। সেদিন সে আমকে ১ লাখ রূপিতে পার্টনারশীপে ইন্টারনেট ক্যাফে এর ব্যবসার এর অফার করলো। রাজিও হলাম কিন্তু আমি লস খেতে শুরু করলাম এখানেও। ৫০% লস হয়ে গেল। লস খেলেও এখানে মজার ব্যাপার ছিলো এখান থেকেই আমার লাইফের পরিবর্তন শুরু হয়। তখন আমি ইন্টারনেট এর অনেক কিছু জানতে শুরু করলাম এবং এক পর্যায়ে ব্লগসপ্টে ক্রিকেট নিয়ে একটা সাইট খুলে সেটাই গুগুল এডসেন্স এপ্রোভ করাই। ব্যবসায় লসের কারনে আমরা দোকান বিক্রি করে ফেলি এবং ৫০ হাজার রুপি নিয়ে আবার বাড়িতে চলে আসি এবং সেখান থেকেই আমি গুগুল এডসেন্স এর আর্ন করা শুরু করি এবং ২০১০ সালের জুলাইয়ে আমার গুগুল এডসেন্স আর্ন হয় ১১৭ ডলার। এভাবে আস্তে আস্তে ১০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করি। সেখান থেকেই আমার আরো আগ্রহ বেড়ে যায়। তাই সেই টাকাগুলো আমি ইংরেজী শেখা ও এসইও শেখায় ব্যয় করি। এবং এক পর্যায়ে বুঝতে পারি আমার সাকসেস এর জন্য ভালো ইংরেজি কমানিকেশন অনেক জরুরী। তাই ইংরজী শেখাটা আরো ভালো করে চালিয়ে যাই এবং এবং এক পর্যায়ে আমার ইংরেজী সাইট onlineustaad.com ব্লগটি চালু করি। সেখানে আমি বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দিতে থাকি আমার আয়ও বাড়তে এবং আমি অনলাইনে কোর্স করানো শুরু করি। এবং এক পর্যায়ে ইউডেমি,স্কিলশেয়ার,স্কিলফিড,স্ট্যাক সোশ্যাল এ আমার কোর্সগুলো বিক্রি শুরু করি। এবং গত বছর সেখান থেকে আমি প্রায় ১ লাখ ডলারের মতো আয় করি। যা পাকিস্তানে এক কোটি রুপির উপর।

এতক্ষন যার গল্প আপনাদের শুনাচ্ছিলাম তিনি ইউডেমির জনপ্রিয় একজন শিক্ষক পাকিস্তানের আব্দুল ওয়ালি । আজ তিনি একজন সফল অনলাইন প্রফেশনাল। যিনি কিনা এক সময় বিরিয়ানির দোকানে বসে সপ্ন দেখতেন ভালো জায়গা কাজ করতে, ইংরেজী কথা বলতে, বিভিন্ন দেশে ঘুড়ে বেড়াতে অথচ তিনি ছিলেন একদম অশিক্ষিত। আজ তিনি সশিক্ষিত, ভালোভাবে ভালো জায়গায় কাজ করছেন এবং তার সপ্ন ছিলো বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানো, সেটাইও তিনি করছেন। শুধু তার ট্র্যাভিলিং নিয়ে কয়েকমাস ধরে একটি ট্র্যাভেল ব্লগ খুলেছেন। আজ তিনি তার সপ্নপূরন করেছেন শুধু তার ইচ্ছা ও পরিশ্রমের জুড়ে। সো, জীবনে সাকসেস পেতে হলে সৎ ইচ্ছা ও পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

( বছরের শুরুতে ফেসবুকে তাকে নিয়ে লিখেছিলাম আজ আবার বিস্তারিত লিখলাম।  লেখাটি আমি তার ইংরেজী ব্লগ onlineustaad.com  থেকে অনুবাদ করে কিছু অংশ তুলে ধরেছি। )

One thought on “একজন বিরিয়ানিওয়ালার অনলাইন ক্যারিয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

four × 2 =