ফেসবুক প্যাসিভ ইনকাম মডেল

প্রায়ই একটা কথা শুনা যায় ভাই আর্নিং এর শর্টকার্ট ওয়ে নাই? ইয়ে মানে ফেসবুক থেকে আর্ন করতে চাই! হ্যা আজকের পোস্টটা তাদের জন্য। আজ আপনাকে রিয়েল বিজনেস আইডিয়া দিচ্ছি।যা কিনা আজ থেকেই স্টার্ট করতে পারবেন। যেখান থেকে আপনি লাইফটাইম আর্ন করতে পারবেন। শর্টকার্ট বলছি বলে ভাববেন না এটা পানিভাত। যারা ক্লিকবাজি ও স্প্যামিং পছন্দ করেন তারা আগেই পড়া বাদ দেন। তাদের জন্য এটা না। এখানে রিয়েল বিজনেসের মতোই ইনভেস্ট করতে হবে। লেখাটি মূলত আমি ৩-৪ মাস আগে লিখেছিলাম মেকমানির উপর ইংরজীতে আমার একটি ফ্রি ইবুক এর জন্য। সেটা জাস্ট বাংলায় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

ফেসবুক ফ্যান পেজ বিল্ডঃ

১। প্রথমে আপনার পছন্দের নিশ বা বিষয় সিলেক্ট করুন যে বিষয়ের উপর আপনি কাজ করতে চান। যেমনঃ মেকমানি, হেলথ, টেকনোলজি,আর্ট ইত্যাদি।

২। আপনার নিশের উপর সুন্দর একটা নাম দিয়ে পেজ ক্রিয়েট করুন। এবং সুন্দর করে পেজটাকে সাজান।

৩। এবার ইন্সটাগ্রামে যান সেখানে গিয়ে আপনার নিশের উপর হ্যাশট্যাগ ইউজ করে সার্চ করুন এবং লেটেস্ট ভাইরাল কন্টেন্টগুলো খুজুন। ইন্সটাগ্রাম নিজ থেকেই আপনাকে টপ কন্টেন্টগুলো দেখাবে। সেগুলো থেকে আইডিয়া নিয়ে এবার নিজের মতো করে ভাইরাল কন্টেন্ট বানান। যেমন ধরুন আপনি মেকমানির উপর মার্কেটিং করতে চাচ্ছেন। আপনি টার্গেট হতে পারে উদ্যোগতাদের। তাই আপনি মটিভেশনাল ভাইরাল ইমেজ নিতে পারেন। সেগুলো থেকে আইডিয়া নিজের মতো করে ডিজাইন করুন এবং আপনার পেজের লগো ইউজ করে ইমেজ তৈরী করুন। টেক্সট ইউজের ক্ষেত্রে ফেসবুকের নিয়ম মেনে চলুন। বেশি টেক্ট দিয়ে ইমেজ বানাবেন না। আর ভিডিওর ক্ষেত্রে ইমেজ আর টেক্সট দিয়েও সুন্দর সুন্দর ভাইরাল ভিডিও বানানো যায়। এক্ষেত্রে সুন্দর উদাহরণ হতে এর ফেসবুকে জনপ্রিয় একটি ফ্যান পেজ Bright Side এর ভিডিওগুলো। আরেকটা কথা, অন্যের ভিডিও আপলোড করা বাদ দিন। যেকোন সময় কপিরাইট খেতে পারেন। যার জন্য আপনার পেজে যত লাইকই থাকুক না কেন পেজ হারাতে পারেন।

৪। কন্টেন্ট তৈরী শেষ এবার পেজে পোস্ট করুন। এবং তা টায়ার ২ কান্ট্রিগুলোতে বোস্ট করুন।কারণ এখানে টায়ার ১ কান্ট্রির মতো অনেক ইনভেস্ট করতে হবে না। টায়ার ২ কান্ট্রির লিস্ট পেতে গুগুল সার্চ করুন পেয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে আপনি ইউরোপ কান্ট্রিগুলো বেছে নিন। প্রতিদিন ৫-১০ ডলার বাজেট রাখুন। এনাফ! এতটুকুই যথেষ্ট আপনার কন্টেন্ট ভাইরাল করতে।

৫। এভাবে টানা ১-২ মাস কাজ করুন। আশা করি এর মধ্যে আপনার পেজ ১ লাখ বা তারও বেশি লাইক হবে।

স্টার্ট আর্নিংঃ

পেজতো বিল্ড হলো এবার আর্নিং স্টার্টের পালা। এখন আপনার জন্য হাজার হাজার আর্নিং এর রাস্তা খোলা। আপনি আপনার পেজ থেকে এখন অনেক ওয়েতেই আর্ন করতে পারবেন। কি কি উপায়ে আর্ন করতে পারেন তার কিছু উদাহরণ নিচে দেয়া হলোঃ

১। স্পন্সর পোস্টঃ

যদি আপনার ওয়েবসাইট না থাকে স্পন্সর পোস্ট থেকে আপনার পেজের মাধ্যমে আর্ন করতে পারবেন। স্পন্সর নেটওয়ার্কগুলোতে এ জয়েন করলে দেখবেন তাদের সাইটে নিশভিত্তিক অনেক ভাইরাল আর্টিকেল এর লিংক দেয়া আছে।যেগুলো ট্র্যাকিং লিংক। সাইটে ভিজিটর পাঠালে আপনাকে তারা পে করবে। স্পন্সর পোস্টগুলো অনেকটা এডসেন্সের মতো। এ ক্ষেত্রে এ সুবিধা এডসেন্স ব্যানের চিন্তা আপনাকে করতে হলো না। এরা সাধারণত প্রতি ১০০০ ভিজিটরের জন্য কান্ট্রি অনুযায়ী ২ ডলার থেকে শুরু করে ২০ ডলার পর্যন্ত দিয়ে থাকে। এরকম নেটওয়ার্ক গুগুলে সার্চ করলে আপনি অনেক পাবেন। যেমনঃ মাইলাইকস,লিপভাইরাল,টুইলিকস ইত্যাদি।

২। টি- শার্ট সেলঃ

আপনার ফ্যান পেজ যেহেতু একটি নিশের উপর ইন্টারেস্ট সেহেতু আর্নিং এর অন্যতঅম আরেকটি ওয়ে হতে পারে টি-শার্ট সেল বিজনেস। ভালো ডিজাইন হলে এ ক্ষেত্রে সেল হবার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। টি-শার্ট সেল প্লাটফর্মঃ টিস্প্রিং,ভাইরালস্টাইল,টিলিজি ইত্যাদি।

টিস্প্রিং এ জয়েন করতে এখানে ক্লিক করুন

৩। ব্লগ ও ভিডিও মনিটাইজেশনঃ

আপনি চাইলে ব্লগ সাইট ক্রিয়েট করে তা মনিটাইজেশন করতে পারেন বিভিন্ন সিপিসি,সিপিএম,সিপিএ,পিপিআই,পপআপ,ইউআরএল শর্টেনার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। যেমনঃ গুগুল এডসেন্স,রেভিনিউহিটস,ম্যাক্সবাউন্টি,সিপিএলিড,পপক্যাশ,সিইন্সটলার,এডফ্লাই ইত্যাদি। ইউটিউবের ভিডিও মনিটাইজড করেও আর্ন করতে পারেন। ভিডিও আপলোডের শুরুর দিকে আপনার পেজ থেকে ভালো ভিউ পেলে র‍্যাংক এর ক্ষেত্রে হেল্প করবে। নিচে কিছু নেটওয়ার্কের আমার রেফার লিংক দেয়া হলো।

সিপিএলিড এ জয়েন করুন

সিইন্সটলার এ জয়েন করুন

পপক্যাশ এ জয়েন করুন

এডফ্লাই এ জয়েন করুন

৩। এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

অনলাইন মার্কেটিং এ আর্নিং এর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনার কোন প্রোডাক্ট না থাকলেও অন্যের প্রোডাক্ট সেল করে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে বেশ স্মার্ট ইনকাম করতে পারেন। এফিলিয়েট মার্কেটারদের মার্কেটপ্লেসের অভাব নেই।প্রায় প্রতিটি ভালো ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট মার্কেটপ্লেসে এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু আছে। শুধু এফিলিয়েট থেকে মিলিয়ন ডলার আর্ণ করেন এমন অনেক এফিলিয়েট মারকেটার আছে ওয়ার্ল্ডে। আপনি চাইলে আপনার ফ্যান পেজের মাধ্যমে এফিলিয়েট প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন। জনপ্রিয় এফিলিয়েট নেটওয়ার্কঃ ক্লিকব্যাংক,জেভিজু,এমাজন ইত্যাদি।

৪। প্রোডাক্ট সেলঃ

আপনি চাইলে ফ্যান পেজ এর মাধ্যমে আপনার নিজের প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন। যেমনঃ ইবুক, টিউটোরিয়াল,ওয়ার্ডপ্রেস থিম,ডিজাইন ইত্যাদি। কিভাবে কোন ওয়েবসাইট ছাড়া আপনার ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করবেন তা নিয়ে কিছুদিন আগে একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম তা দেখতে পারেন।

পড়তে এখানে ক্লিক করুন

৫। লিস্ট বিল্ডিংঃ

যাই করুন না কেনো লিস্ট বিল্ডিংটাকে চালু রাখবেন সবসময়। মার্কেটিং এ একটা কথা “ মানি ইজ ইন দ্যা লিস্ট” । লিস্ট বিল্ডিং নিয়ে এ কথাও আছে যে – ১ টা টার্গেটেড লিস্ট থেকে আপনি মাসে ১ ডলার আর্ন করতে পারবেন। এই ট্রাফিকগুলোর কন্ট্রোল আপনার হাতে। সো সবসময় আপনার ট্রাফিককে লিস্টে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন।

মেইলারলাইটে জয়েন করতে ক্লিক করুন

আজ এই পর্যন্তই। সামনে আরো লেখা নিয়ে হাজির হবো । ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন।আর পোস্ট ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

ten + twenty =