সফলতা না আসা পর্যন্ত ফোকাস থাকুন – রুহুল আমিন

[ রুহুল আমিন। একজন সফল সিপিএ মার্কেটার। ইন্টারনেট মার্কেটিং এ তার জার্নি খুব বেশিদিনের না হলেও এই অল্পসময়েই পেয়েছেন বেশ সফলতা। গড়ে তুলেছেন নিজের একটি সিপিএ নেটওয়ার্ক কোম্পানি। ইন্টারনেট মার্কেটিং নিয়ে তার সফলতা ও ব্যর্থতার গল্প শুনতে জাকির হোসেন ডট মি থেকে কয়েকদিন আগে একটি সাক্ষাতকার নেয়া হয়। আজ তা আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো।]

জাকিরঃ অনেকেই হয়তো জানেনা ইন্টারন্যাশনালি আপনার একটি সিপিএ নেটওয়ার্ক আছে। প্রথমেই সেটা নিয়ে জানতে চাইবো। যদি সেটা নিয়ে কিছু বলতেন।

রুহুল আমিনঃ জ্বী অবশ্যই। এটা দিয়েই শুরু করা যাক। নেটওয়ার্কের নাম সিপিএল্যান্স। www.cpalance.com এর ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করি আজ থেকে এক বছর আগে। এবং সিপিএল্যান্স  এর কার্যক্রম শুরু করি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের এক মাস পর। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ ভালো সংখ্যক পাবলিশার্স/ এফিলিয়েট নিয়ে বেশ ভালো ভাবেই সিপিএল্যান্স এগিয়ে চলছে ।বর্তমানে কিছু ফিচার নিয়ে কাজ করছি, যা কিনা একদম নতুন এবং ইউনিক।

জাকিরঃ বাংলাদেশে থেকে একটি সিপিএ কোম্পানি চালাচ্ছেন। অবশ্যই কিছু প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে তা চালাতে হচ্ছে। এই মুহুর্তে কি কি বিষয় আপনার জন্য বেশি প্রতিবন্ধক বলে মনে হয়?

রুহুল আমিনঃ আসলে আমরা (বাংলাদেশ) এখনো এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশের জন্যে উপযোগী নই। আপনি জানেন যে, এখানে অনেক লেনদেন এর ব্যাপার আছে। যা কিনা বাংলাদেশ থেকে সম্ভব না। তাই বুঝতেই পারছেন কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এফিলিয়েট পেমেন্ট নিয়ে। এই সমস্যার জন্য বাংলাদেশের অন্যতম সফল সিপিএ নেটওয়ার্ক বন্ধ প্রায়।

জাকিরঃ যদিও আপনার নিজের সিপিএ নেটওয়ার্ক আছে। তারপরও জিজ্ঞাসা এটা ছাড়া অন্য কোথাও বা কোন প্রজেক্ট নিয়ে করছেন?

রুহুল আমিনঃ জ্বী একটি প্রজেক্ট কাজ করছি। এটি মূলত এফিলিয়েট ট্র্যাকিং সফটওয়্যার। এখানে আমি CTO হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

জাকিরঃ কবে এবং কিভাবে ইন্টারনেট মার্কেটিং আসা?

রুহুল আমিনঃ এটা ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় হবে, আমি এবং আমার বন্ধু নুরজামান অনলাইনে আয় সম্পর্কে জানি এবং শুনি। এর পর হঠাৎ করে ফরহাদ হোসেন ভাইয়ের ভিডিও হাতে পাওয়া। তারপর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে ক্লিকব্যাংক এ কাজ শুরু করি আমার রুমমেট মারুফের কম্পিউটার দিয়ে। একটি কথা না বললেই নয়, তখনও আমার কম্পিউটার ছিলনা।

জাকিরঃ প্রথম সেল কাজ শুরুর কতদিন পর পান? অনুভূতি কেমন ছিলো তখন?

রুহুল আমিনঃ শুরুর একদম প্রথমেই সেল পেয়েছিলাম বললেই চলে। মাত্ৰ ৬ দিনের মাথায় সেল পেয়েছিলাম। আসলে সেদিনের অনুভূতিটা কখনোই ভুলবার মত না। সেদিন সন্ধ্যা একটু পর ক্লিকব্যাংক একাউন্ট চেক করে দেখি সেল পেয়েছি। তারপর কি করেছিলাম জানেন। খুশিতে পাগলের মতো আচরণ শুরু করেছিলাম, সারারাত আশেপাশের কাউকে ঘুমাইতে দেইনি। হা,হা,হা……

জাকিরঃ প্রায় প্রতিটি সফলতার পিছনে লুকিয়ে থাকে ব্যর্থতার গল্প। আপনারও কি এমন কোন গল্প আছে? যদি শেয়ার করতেন।

রুহুল আমিনঃ ২০১৫ এর এপ্রিলের মাঝামাঝি। কাজ শুরু করেছি মাত্র এবং ৩-৪ টার মত সেলও পেয়েছি। আমার ডিপ্লোমা শেষ। বাসায় আসলাম, এরপর বাসায় কম্পিউটার কেনার জন্য বলি কিন্তু আমার ফ্যামিলির কাউকে বিশ্বাস করাতে পারিনি যে অনলাইনে আয় করা যায়। আমার ফ্যামিলির একটাই কথা ছিল জবের জন্য ঢাকা যাচ্ছিনা কেন? নিরুপায় হয়ে বড় মামার কাছে চলে আসলাম ময়মনসিংহ, ভালুকাতে। আসার পর পর মামাকে সব কিছু খুলে বললাম। মামা রাজি হলেন। কিন্তু শর্ত জুড়ে দিল, এক মাসের মধ্যে যদি আমি অনলাইনে আয় করে দেখাতে পারি তাহলে আমাকে সুযোগ দেয়া হবে, আর যদি ব্যর্থ হই তাহলে একমাসের সব খরচ ফেরত দিতে হবে (আসলে আমি খুব অলস, যাতে বেশি পরিশ্রম করি তাই এই শর্ত জুড়ে দিয়েছিল)। মামার নিজেরও কোনো কম্পিউটার নেই। মামা তার কোনো এক কলিগের কম্পিউটার এনে দিয়েছিল। এর পর কাজ শুরু করলাম আবার প্রায় দেড় মাস পর। প্রায় ১২-১৫ দিন শেষ, কিন্তু না কোনো সেল, না কোন অগ্রগতি দেখছিলাম। খুব টেনশনে পড়ে গেলাম। এই বুঝি আমি হেরে যাচ্ছি। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু যেই মেথডে মার্কেটিং করার চেষ্টা করছিলাম, তা চালিয়ে যেতে থাকলাম। অতঃপর যা হবার তাই হল। হঠাৎ একদিনেই বেশ ভালো সেল পেলাম, ব্যস তখন থেকেই সবার সাপোর্ট পেলাম। এবং আজকের এই আমি।

জাকিরঃ ইন্টারনেট মার্কেটিং কিভাবে শিখেছেন এবং কাউকে আদর্শ হিসেবে মানেন?

রুহুল আমিনঃ আগেই বলেছি, শুরুটা হয়েছিল ফরহাদ হোসেন ভাইয়ের ভিডিও দেখে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই উনাকে আর্দশ হিসেবে মানি। কেননা, ওই সময়টাতে উনি আমার মত অনেককেই সফলতা পেতে হেল্প করেছেন, তাও আবার ফ্রী তে। আর উনার হেল্প এখনো পাই।

জাকিরঃ আগামি ৫ বছরে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

রুহুল আমিনঃ নিজেকে নিয়ে তো অনেক ইচ্ছেই আছে। জানিনা কতদূর যেতে পারবো। তবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে সিপিএল্যান্সকে ওয়ার্ল্ড এর টপ ১০ তালিকার নিয়ে যেতে চাই। যদিও খুব কঠিন, আশা করতে তো আর মানা নেই।

জাকিরঃ ইন্টারনেট মার্কেটিং এ সফল হতে হলে  নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

রুহুল আমিনঃ নতুনদের জন্য আমার পরামর্শ হবে, আপনি যদি কম পক্ষে ১ বছর ফ্রীতে পরিশ্রম করতে পারেন, কোনো রকম আয়ের চিন্তা ছাড়া তাহলে আপনাকে স্বাগতম। এবং অবশ্যই সফলতা না আসা পর্যন্ত ফোকাস থাকুন। জাম্পিং কখনো করবেন না।মানে আজকে এটা তো কালকে ওটা করা থেকে বিরত থাকুন। আর একটা কথা না বললেই নয়, আগে টাকা আয়ের চিন্তা মাথা থেকে একদম ঝেড়ে ফেলুন। কাজ জানলে আয় হবেই হবে আপনার। তাই বলছি আগে শিখুন। শেখার জন্য গুগল এবং ইউটিউব ই যথেষ্ট। তবে এই সেক্টরে ভালো করছে এমন কাউকে মেন্টর হিসাবেও নিতে পারে।

জাকিরঃ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সময় দেয়ার জন্য।

রুহুল আমিনঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

13 − 12 =