ধৈর্য্য ধরে টিকে থাকার মন মানসিকতা তৈরী করুন – আরাফাত ইয়াসির

আরাফাত ইয়াসির। কো ফাউন্ডার ড্রিমিটেক। ৬ ফিগার ডলার আর্নার ইন্টারনেট মার্কেটার। যদিও অধিকাংশ সময় নিজেকে হাইড করেই চলেন। অনেকদিন ধরেই আরাফাত ইয়াসির ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়। কিছুদিন আগে তার ইন্টারনেট মার্কেটিং জার্নি নিয়ে জাকির হোসেন ডট মি থেকে সাক্ষাতকার গ্রহন করি। আজ সেটা শেয়ার করা হলো সবার সাথে।

জাকিরঃ শুরুতেই জানতে চাইবো আপনার বর্তমান কাজের অবস্থা নিয়ে। ইন্টারনেট মার্কেটিং এর কোন সেক্টরে কাজ করছেন এখন?

আরাফাত ইয়াসিরঃ মূলত সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি এমাজন এফিলিয়েট ও ড্রপশিপিং নিয়ে।

জাকিরঃ ইন্টারনেট মার্কেটিং এ আসার গল্প শুনতে চাই। কবে এবং কিভাবে শুরু করলেন?

আরাফাত ইয়াসিরঃ ইন্টারনেট মার্কেটিং এ আসা ২০১৫ সালে রিফাত আহমেদ ভাইয়ের হাত ধরে। এর আগে ওডেস্ক বা বর্তমান আপওয়ার্ক এ ইমেইল মার্কেটার হিসেবে ৯ মাস কাজ করি। তখন ঘণ্টায় ২ থেকে ৩ ডলার হিসেবে কাজ করতাম। হঠাত একদিন রিফাত আহমেদ ভাই এর কিছু ফ্রি ভিডিও ফেসবুক নিউজ ফিড এ আসলো। তখন উনার ভিডিও দেখে ইন্টারনেট মার্কেটিং সম্পর্কে ধারনা পাই। ফ্রি ভিডিও তে যাস্ট ব্যসিক আইডিয়া ছিল। তখন মার্কেটিং এর আরও ভেতরে ঢুকতে ইচ্ছা হল। কিন্তু মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত জানতে হলে উনার পেইড ভিডিও কিনতে হবে। তখন আমার কাছে কোন টাকাই ছিলনা। কিন্তু মনকে কোন ভাবে বুঝাতে পারছিলামনা। যাই হউক টাকা পাবো কই ? অনেকের কাছেই টাকা ধার চাইলাম কিন্তু কাউকে পাইনাই তখন যে আমাকে ১০ হাজার টাকা ধার দেবে। তখন মনের লজ্জা ভেঙ্গে আমার ক্লোজ এক মামাকে কল দিয়ে ধার চাইলাম। মামা এক কথায় রাজি হল। তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা আর আমার মেঝ ভাইয়ের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নিলাম। পরের দিন চলে গেলাম রিফাত ভাইয়ের কাছে। পেইড টিউটোরিয়াল গুলো কিনলাম তারপর স্টেপ বাই স্টেপ মার্কেটিং শেখা শুরু করে দিলাম। প্রথম সেলের পর থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম আপ ওয়ার্ক এ আর কাজ করবোনা। ইন্টারনেট মার্কেটিং টাই পেশা হিসেবে নিয়ে নিলাম। এভাবেই মার্কেটিং এ যাত্রা শুরু।

জাকিরঃ প্রথম সেল পাওয়ার মুহুর্তটি কেমন ছিলো যদি বলতেন।

আরাফাত ইয়াসিরঃ কাজ শুরু করার সময় ভেবেছিলাম পথ টা মনে হয় অনেকটা সহজ হবে কিন্তু যতই দিন যাচ্ছিল পথ ততটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। ইনভেস্ট করার কোন পথ ছিলনা আমার। ইউটিউব ফ্রি মেথড দিয়ে শুরু করলাম। প্রথম ১০ দিন কাজ করলাম কিন্তু কোন সেল পাচ্ছিলামনা।১৩ দিনের মাথায় হঠাত একাউন্ট ওপেন করে দেখি ২০০ ডলার আমার একাউন্টে। জীবনে এত ডলার একসাথে দেখিনাই  – ২ মিনিট হা করে তাকিয়ে ছিলাম! কয়েকবার রিফ্রেশ দিলাম। দেখলাম, নাহ ২০০ ডলার একাউন্ট থেকে যাচ্ছেনা এরপর সিউর হলাম আমি ২০০ ডলার এর মালিক। আমার খুশি দেখে কে! সাথে সাথে সিজাদায় লুটিয়ে পরে কেঁদে দিলাম। আম্মুকে দেখালাম ভাইয়াকে দেখালাম । এককথায় ওই সময় টায় এত টাই খুশি হয়ে যাই যা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। তখন ১৩ দিনের মাথায় ২০০ ডলার আসা মানে আমার সপ্নগুলো গুলো আরও বড় হল। মানে আমার স্বপ্নগুলো আরও বড় করে দেখতে শুরু করলাম।

জাকিরঃ প্রায় প্রতিটি সফলতার পিছনে লুকিয়ে থাকে ব্যর্থতার গল্প।  আপনার এতদূর আসার পিছনেও কি এমন কোন গল্প আছে? যদি শেয়ার করতেন।

আরাফাত ইয়াসিরঃ আগেই বলেছিলাম শুরুটা যতো সহজ মনে করেছিলাম আসলে পথ টা তার চেয়ে অনেক অনেক কঠিন ছিল । আমার মার্কেটিং  জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় কাটিয়েছি প্রায় ১.৫ বছর। ৪  মাস রাত দিন শুধু  ওয়িনিং ক্যাম্পেইন এর পেছনে ছিলাম। ওই ৪ মাস কোন ইনকাম ছিলনা হাতে ছিল ১০০ ডলার । ওই ১০০ ডলার ছিল আমার লাইফ এর টার্নিং পয়েন্ট।  বড় বড় মার্কেটারদের কাছ থেকে যখনি সাজেশন চাইতাম সবাই একটা কথাই বলতো। যতো পার টেস্ট করো  টেস্ট এর বিকল্প নেই। ওই কথা অনুযায়ী টেস্ট করা শুরু করলাম আর আল্লাহর সাহায্য চাইলাম। আলহামদুলিল্লাহ ১০০ ডলার এর মধ্যেই আমি কয়েকটা ক্যাম্পেইন বের করে ফেলি। তার পর থেকে আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিন্তু ওই ক্যাম্পেইন গুলো বের করতে জে পরিমান কষ্ট আমাকে করতে হয়েছে টা কখনই ভোলার নয়। তাই সবসময় নতুন দের বলে থাকি আপনি ইন্টারনেট মার্কেটিং এর পথ টাকে যতো কঠিন ভাবছেন পথ টা তার চেয়ে অনেক অনেক কঠিন। যদি ধৈর্য  ধরে টিকে থাকার মন মানসিকতা না থাকে তাহলে এই সেক্টর এ না আসাই ভালো।

জাকিরঃ ইন্টারনেট মার্কেটিং কিভাবে শিখেছেন এবং কাউকে আদর্শ হিসেবে মানেন?

আরাফাত ইয়াসিরঃ ইন্টারনেট মার্কেটিং এর শুরু টা রিফাত আহমেদ ভাই থেকে শিখেছি। আরেকজন মানুষের কথা না বললেই নয় যার অবদান কখনই ভুলার নয় তিনি তুহিন পারভেজ ভাই। যখন পেইড  মার্কেটিং শুরু করি তখন তুহিন পারভেজ ভাই এর সহযোগিতায় শুরু করি।আদর্শ হিসেবে কয়েকজন কেই মানি বিশেষ করে রিফাত আহমেদ ভাই ও চার্লস এনজিও।

জাকিরঃ আপনার দৃষ্টিতে সাফল্যের সংজ্ঞা কি?

আরাফাত ইয়াসিরঃ আমার দৃষ্টিতে সাফল্য হচ্ছে নিজেকে এমন স্থানে নিয়ে যাওয়া যেখান থেকে আমার সকল ইচ্ছা, আকাঙ্খা, চাহিদা খুব সহজে পূরন করা যায়।

জাকিরঃ আগামি ৫ বছরে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

আরাফাত ইয়াসিরঃ আগামী ৫ বছরে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাই এবং একজন সফল ইন্টারনেট মার্কেটার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার কে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। নিজেকে তখনি সফল মনে হবে যখন আমাকে দেখে আরেকজন সফল ইন্টারনেট মার্কেটার তৈরি হবে।

জাকিরঃ অবসর সময় কিভাবে কাটান?

আরাফত ইয়াসিরঃ অবসর সময়  মুভি দেখি। মার্কেটিং সেক্টরে আমার পছন্দের মানুষের ব্লগ পরি। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি।

জাকিরঃ নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

আরাফত ইয়াসিরঃ নতুন দের জন্য একটাই পরামর্শ। ইন্টারনেট মার্কেটিং সেক্টরে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। তবে তার জন্য  ৩ টা জিনিশ অবশ্যই থাকা লাগবে। অন্যথায় এখানে টিকে থাকা যাবেনা। ১। কঠোর পরিশ্রম করার জন্যে নিজেকে তৈরি করা।  ২। ধৈর্য্য ৩।ধৈর্য্য । আপনার মধ্যে যদি ধৈর্য না থাকে সেক্ষেত্রে টিকে থাকতে পারবেননা। ইন্টারনেট মার্কেটিং এর পথ টাকে যতোটা কঠিন ভাবছেন পথ টা তার চেয়ে অনেক কঠিন। সুতরাং কঠিন পথ টাকে পারি দেয়ার জন্য নিজেকে সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে। কঠিন পথ পারি দেয়ার পর আপনি এমন উঁচু অবস্থানে পৌঁছে যাবেন যা কখন কল্পনা করেননি।

জাকিরঃ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সময় দেয়ার জন্য।

আরাফাত ইয়াসিরঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

18 − 14 =